কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৪ মাত্রার একটি প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প। সোমবার (স্থানীয় সময়) আঘাত হানা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ২১ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের আঘাতে দেশটির বিভিন্ন শহরে অসংখ্য ভবন ধসে পড়েছে এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটিতে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১২টা ৩৪ মিনিটে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সান হোসে দেল পালমার শহরের প্রায় ৫ কিলোমিটার পূর্বে এবং এর গভীরতা ছিল ১০৭ কিলোমিটার। তবে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের পরও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন, ওয়াশিংটন ও আলাস্কা উপকূল এবং কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ও কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে কোনো সুনামির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রধান ভূমিকম্পের প্রায় ৪৪ মিনিট পর সান হোসে দেল পালমারের পশ্চিমে ৫ মাত্রার একটি আফটারশকও অনুভূত হয়।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পেরেইরা ও মানিজালেস শহরে। শুধু পেরেইরার মেয়র মরিসিও সালাজার ১৮ জনের মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেছেন। মানিজালেসের মেয়র হোর্হে এদুয়ার্দো রোহাস জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত দুজন নিহত এবং ৩২টির বেশি ভবন পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালের একটি প্রধান টাওয়ার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হেলে পড়েছে। এ ছাড়া চোকো বিভাগের রাজধানী কিবদোতে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ক্যালি ও মেদেলিনসহ বিভিন্ন শহরেও বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের ধাক্কায় কলম্বিয়ার বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্যালির আলফোনসো বোনিয়া আরাগন বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ছাড়াও পুরাসে আগ্নেয়গিরি থেকে ছাই ছড়িয়ে পড়ায় পোপায়ান বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে পেরেইরা, মানিজালেস, কিবদো, আরমেনিয়া ও কার্তাগোর বিমানবন্দরগুলোরও কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাই করা হয়। রাজধানী বোগোতায় কম্পন অনুভূত হলে জরুরি সাইরেন বেজে ওঠে এবং আতঙ্কে হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ও অফিস ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। কলম্বিয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও পানামাতেও এই কম্পন অনুভূত হয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা একটি সমন্বিত কমান্ড পোস্ট গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালকের কাছে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তলব করার পাশাপাশি তিনি নিজে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের ঘোষণা দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি চলতি শতকে কলম্বিয়ায় আঘাত হানা অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প।


মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন